দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারত থেকে ‘কোয়ার্টজ পাউডার’ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা একটি চালান থেকে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত ওষুধের কাঁচামাল জব্দ করেছে বেনাপোল কাস্টমস। চালানটি অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট শেডে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের মেসার্স আরাফাত এন্টারপ্রাইজ ভারত থেকে প্রায় ১৬ টন পণ্য আমদানি করে। আমদানি ঘোষণাপত্রে পণ্যের নাম ‘কোয়ার্টজ পাউডার’ উল্লেখ করা হলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দরের ৩২ নম্বর শেডে রাখা চালানটি পরীক্ষা করে কাস্টমস কর্মকর্তারা ঘোষণাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেন।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেট, ৮ হাজার ২০০ কেজি কোয়ার্টজ পাউডার, ২ হাজার ১৫০ কেজি ওমিপ্রাজল বা এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইহাইড্রেট, ৪৯৫ কেজি এটোরিকক্সিব, ৩৫০ কেজি সেফট্রিয়াক্সন সোডিয়াম, ১৮০ কেজি হাইড্রোকুইনোন, ১২০ কেজি ম্যাগনেসিয়াম স্টিয়ারেট, ১০০ কেজি ক্যাফেইন, ১০০ কেজি রিবোফ্লাভিন সোডিয়াম ফসফেট, ৫০ কেজি স্যালিসিলিক অ্যাসিড, ৪০ কেজি মন্টেলুকাস্ট সোডিয়ামসহ আরও কয়েক ধরনের কাঁচামাল।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, চালানটি নিয়ে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি চক্র চালানটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর পর থেকে সংশ্লিষ্ট শেডে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং বন্দরের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে এর আগে জব্দ হওয়া আরেকটি ওষুধের কাঁচামালের চালান সংরক্ষিত শেডেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, ‘কাস্টমসের অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শেডগুলোতে ২৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ রাখা হচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও ‘সোডিয়াম গ্লাইকুলেট’ ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা একটি চালান পরীক্ষাগারে সিলডেনাফিল সাইট্রেট হিসেবে শনাক্ত হয়েছিল। সেই চালানটি এখনো বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে সংরক্ষিত রয়েছে।
এমএম/